লকডাউন
লকডাউন পূর্ণিমাদেবীর আজ কদিন শরীরটা খুব একটা ভালো যাচ্ছেনা। বয়সতো কম হলনা, এই পঁচাত্তর ছুঁই ছুঁই। আর সেভাবে শরীর চলে না। আজকাল হাতপা খুব কাঁপে, দু-পা চললেই হাঁপিয়ে পড়েন। চোখেও ভাল দেখেননা। তার উপর আজ দুদিন ঠিক মতো খাওয়াও জোটেনি। শরীরটা খুবই দূর্বল লাগছে। কোনো রকমে এই দুদিন দুটো করে মুড়ি-জল খেয়ে কেটেছে একবেলা করে। কিন্তু আজ তো ঘরে খাবারের এক কানাকড়িও নেই। এদিকে খিদেয় পেটে মোচড় দিচ্ছে। সকালে উঠে ঘরদোর টা বহু কষ্টে পরিষ্কার করে কোনো রকমে টাইমের কল থেকে এক বালতি খাওয়ার জল তুলে নিয়ে, একেবারে স্নান করে ঘরে ঢুকে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে প্রনাম করে তার ঝুপরি ঘরের দোরের কাছে বসে, ভাবতে বসলেন যে আজকের দিনটা কিভাবে গুজরান হবে। কিন্তু ভেবেও কোনো কুলকিনারা পেলেন না। দুচোখ ভরে জল চলে এল । খিদের জালা যে বড়ো জালা! মনে মনে বললেন, "এই বুড়ো বয়সে কি না খেতে পেয়ে মরতে হবে ভগবান ?" এমনটা তো তাঁর সাথে হওয়ার কথা ছিলোনা? এখনতো নাতি-নাতনী, ছেলেপুলে নিয়ে...